সেন্ট গ্রেগরীর সেন্টমার্টিন দর্শন

 

শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ সিএসসির অনুমতিক্রমেসেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার তৃতীয় ব্যাচের ( একাদশ শ্রেণি-ব্যাচ ২০২০) ১৩৩ জন ছাত্র এবং কলেজ শাখার ১৩ জন শিক্ষকসহ ( দুজন ব্রাদারসহ ) মোট ১৪৬ জনের একটি দল সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ রাত ৮টায় ৪টি বাসে ( বাসগুলোর নাম-বায়ান্ন, অমর একুশ, একাত্তর ও মহান বিজয় ) শিক্ষার প্রয়োজনে অর্থাৎ শিক্ষা সফরে বের হই এই দলটির নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ ব্রাদার তরেন যোসেফ পালমা সিএসসি ও শিক্ষা সফর কমিটির প্রধান ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রভাষক আবদুল মান্নান লাভলু তিন রাত ও দুই দিনের এই সফরটির অর্ধেক সময় আমাদের বাসে ও জাহাজে কাটলেও এবং অবকাশ যাপনের সুযোগ না থাকলেও আমরা সেন্টমার্টিনকে বেছে নিই প্রধানত দুটি কারণে প্রথম কারণ, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় ২০১৯ সালে ১লা জুন থেকে দ্বীপটিতে রাত যাপন নিষিদ্ধ করা হতে পারে এবার না গেলে আর কখনো দ্বীপটিতে রাতে থাকার সুযোগ পাওয়া নাও যেতে পারে দ্বিতীয়ত, সেই কারণে দ্বীপে যেহেতু বেশিক্ষণ অবস্থান করা যাবে না সেহেতু এখানকার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কেও সম্মুখ-দর্শন হবে না ( বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো সেন্টমাটিনে যাচ্ছেন ) আরেকটি কারণ খুব সাধারণ- সেন্টমার্টিনে সবার অন্তত একবার যাওয়া দরকার আমরা ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় যাত্রা শুরু করি এবং ফিরে আসি ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭-৯টার মধ্যে আমরা ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল আটটার মধ্যে টেকনাফ পৌছাই টেকনাফে পৌছানোর আগে আমরা কক্সবাজারের বিশেষ করে টেকনাফ ও উখিয়ার পাহাড় দেখি এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দেখি আমরা অনেকে রোহিঙ্গাদের অবস্থা টেলিভিশনে দেখলেও বাস্তবে দেখিনি এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই অনেক কাজে লাগবে বাস থেকে নামার আগেই সকালের নাস্তা করে নিই বাস থেকে নেমেই আমরা জাহাজে উঠি কারণ, জাহাজেই ফ্রেশ হয়ে নেওয়া এবং অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক ও নিরাপদ জায়গায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করা যেখান থেকে পাহাড়-নাফ নদী-সমুদ্র-গাঙচিল ভালভাবে দেখা যায় জাহাজ ছাড়ে সকাল সাড়ে নটায়

জাহাজ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখ সাড়ে বারোটায় আমরা দ্বীপের মূল জেটিতে নামি যেটির অবস্থান দ্বীপের উত্তর প্রান্তে এবং তার সামনেই দ্বীপের মূল বাজার বিশেষ করে পর্যটকদের ক্রয়যোগ্য নানা রকম জিনিসের বাজার এই পথ দিয়েই আমরা দ্বীপে প্রবেশ করি এবং ফেরার পথে জাহাজে উঠি

সেন্টমার্টিনের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে সমুদ্র সৈকত, ছেঁড়া দ্বীপ, মেরিন পার্ক, পাথরের মানুষ, বঙ্গোপসাগর, প্রবাল বা কোরাল, পাথরের মানুষসহ অনেক কিছু আমাদের জন্য অবশ্য প্রবাল, বঙ্গোপসাগর ও তার সৈকত এবং ছেঁড়াদ্বীপ সবচেয়ে আকর্শনীয় মনে হয়েছে মেরিন পার্ক এবং পাথরের মানুষ আমাদের দেখা হয়নি আমরা আগে থেকে নির্ধারিত হোটেলে উঠে লাগেজ রেখে ফ্রেশ হয়ে প্রথমেই কোরাল মাছ দিয়ে দুপুরের খাবার খাই এরপরই আমরা নামি সমুদ্রে

এ পর্যায়ে বলে নেয়া দরকার দ্বীপটিতে আমরা কেন গেলাম কি আছে এই দ্বীপটিতে আমাদের দেখার কি আছে এবং কি শিখলাম কেন মানুষের এত আকর্ষন এই দ্বীপ-ভ্রমণে

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনে বঙ্গপসাগরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক জনপদের নাম সেন্টমার্টিন এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনের জেলা কক্সবাজারের সর্ব দক্ষিনের উপজেলা টেকনাফ সদর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে বঙ্গপসাগরের বুকে এর অবস্থান এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনের ইউনিয়ন পশ্চিমপাড়া, পূর্বপাড়া, দক্ষিনপাড়া, উত্তরপাড়া, নজরুলপাড়া, মাঝেরপাড়া, ডেইলপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপাপাড়া ও ছেঁড়াদ্বীপ নিয়ে সেন্টমার্টিন মোট আয়তন মাত্র ১৯৭৭ একর বা ৮ বর্গকিলোমিটার এবং তা উত্তর-দক্ষিনে লম্বা এ দ্বীপের তিন দিকের ভিত শিলা বা প্রবাল-পাথর যা জোয়ারের সময় তলিয়ে যায় তলিয়ে যাওয়া অংশ ধরলে এর আয়তন ১০ থেকে ১৫ বর্গকিলোমিটার বর্ষায় আয়তন কমে যায় শীতে বেড়ে যায় উত্তর-দক্ষিনে এটি প্রায় ৬ কিলোমিটার প্রস্থ সর্বোচ্চ ৭০০ মিটার এবং সর্বনিম্ন ২০০ মিটার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার যা মালদ্বীপের গড় উচ্চাতার দ্বিগুনেরও বেশি মালদ্বীপ ডুবে গেলেও সেন্টমার্টিন সমুদ্রের বুকে জেগে থাকবে দ্বীপের দক্ষিনাংশে ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটারের ছেঁড়াদ্বীপ; স্থানীয়ভাবে যেটা ছেঁড়াদিয়া বা সিরাদিয়া নামে পরিচিত এই দ্বীপে মানুষের স্থায়ী বসতি নিষিদ্ধ ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেন্টমার্টিনের জনসংখ্যা ৬৭২৯ জন তবে পর্যটন মৌসুমে এই দ্বীপে টেকনাফের ব্যবসায়ী ও পর্যটকসহ প্রতিদিন মানুষের সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত দাঁড়ায় বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার স্থায়ীভাবে বসবাসকারী জনসংখ্যার বেশিরভাগই অক্ষরজ্ঞানহীন শিক্ষার হার মাত্র ১৫.১৩% এখানে একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এর পাশাপাশি এখানে রয়েছে ২টি কওমী মাদ্রাসা ও ১৯ টি জামে মসজিদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১টি (ডাক্তার নেই), পুলিশ ফাঁড়ি ১টি, কোস্ট গার্ড ক্যাম্প ১টি, বাংলাদেশ নৌবাহীনি ক্যাম্প ১টি, সরকারী মেরিন পার্ক ১টি, জেলা পরিষদ ডাক-বাংলো ১টি, ডাকঘর ১টি স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশিরভাগই মৎস্যজীবী কৃষি নেই বললেই চলে মৎস্যজীবীদের ক্রেতা স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পর্যটক পর্যটনের সাথেও কিছু মানুষ জড়িত তবে পর্যটনের সাথে এবং ব্যবসা বানিজ্যের সাথে জড়িত মানুষের বেশিরভাগেরই বসতি টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলের

কবে কখন কীভাবে মানুষ এই দ্বীপের সন্ধান পেয়েছিল তার ইতিহাস জানা নেই প্রথম কিছু আরব বণিক এই দ্বীপটির নামকরণ করেছিল জাজিরা জাজিরা থেকে কালক্রমে হয়ে যায় জিঞ্জিরা জাজিরা শব্দের অর্ধ উপদ্বীপ বা বালুকারাশি অবশ্য আরবরা যেহেতেু নামকরণ করেছিল সেহেতু তাদের স্থান-বৈশিষ্টই প্রাধান্য পেয়েছে তবে জিঞ্জরার জিঞ্জির শব্দের অর্থ শিকল বা বন্ধন বাংলাদেশে জিঞ্জিরা নামে একাধিক স্থানের নমকরণ করা হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি ইউনিয়নের নাম জিঞ্জিরা মূলত পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজ উদ-দৌলার পরাজয়ের পর ইংরেজরা তার মা আমেনা বেগম, স্ত্রী লূৎফা বেগম, মেয়ে কুদসিয়া বেগম ও খালা ঘোষেটি বেগমকে জিনজিরা প্রাসাদে বন্দী করে রাখে ঐতিহাসিকদের মতে তাদের জিঞ্জির বা শিকল পড়িয়ে রাখার জন্য এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছিল জিনজিরা বা জিঞ্জিরা এটি ব্রিটিশ আমলে বিশেষ করে ঢাকার নবাবী আমলে পূর্ববাংলার প্রধান বানিজ্যকেন্দ্র ছিল নকল পন্য উৎপাদনের জন্যও এর অনেক বদনাম ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে তবে এর সাথেনারিকেল জিঞ্জরাজিঞ্জিরার কোনো সম্পর্ক নেই সে সময়ে ভারতে তিনটি সমুদ্রবন্দর খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কালিকট, মুম্বাই এবং চট্টগ্রাম কালিকট কেরালায় অবস্থিত যার বর্তমান নাম কোচি সমুদ্র বন্দর মুম্বাই ও চট্টগ্রাম তাদের নাম এখনো ধরে রেখেছে ক্রসেডের কারণে ইউরোপীয়রা বিশেষ করে ইউরোপীয় বণিক এদিকে আসতে পারত না কারণ, মিশর ইউরোপীয় বা অমুসলিমদের জন্য এশিয়ায় আসার সমুদ্রপথ বন্ধ রেখে ছিল প্রায় ৪০০ বছরের চেষ্টায় ইউরোপীয়রা নতুন পথ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়; আফ্রিকা ঘুরে আসতে হয় এবং ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন রোমের পোপের নির্দেশে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামার নেতৃত্বে একদল পর্তুগিজ নাবিক কালিকট বন্দরে অবতরণ করে তার আগে পর্যন্ত ভারতের সাথে বিশ্বের সব ব্যবসাই করত আরব-মিশর এবং আশেপাশের দেশের বণিক আরবরা যখন চট্টগ্রাম বন্দরে আসত তখন আসা যাওয়ার পথে এই দ্বীপ বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করত তারা তখন  একে জাজিরা নামেই ডাকত তবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পায় জিঞ্জরা বলে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কিছু বাঙালি ও রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এই দ্বীপে বসতি স্থাপনের জন্য আসে এরা ছিল মূলত মৎস্যজীবী জানা যায়, প্রথম অধিবাসী হিসেবে এখানে বসতি গড়েছিল ১৩টি পরিবার এরা বেছে নিয়েছিল এই দ্বীপের উত্তরাংশ আগে থেকেই এই দ্বীপে কেয়া এবং ঝাউগাছ ছিল পানি-কষ্টের কারণে এবং ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ এখানে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল গাছ রোপন করে সময়ের সাথে সাথে পুরো দ্বীপজুড়ে নারিকেল গাছে ভরে যায় এর পর থেকে এর নাম হয়ে যায়নারিকেল জিঞ্জিরা ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরিপ দল এই অংশকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে তবে এরা স্থানীয়দের নাম বদলে খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে নামকরণ করেসেন্ট মার্টিনযা এখনসেন্টমার্টিন  সেন্টমার্টিনের মূল আকর্ষণ মাছ, প্রবাল, সমুদ্র , সমুদ্র সৈকত ও ছেঁড়াদ্বীপ

সেন্টমার্টিন মূলত প্রবাল দ্বীপ চারপাশে প্রবাল ঘেড়া দ্বীপ এবং সমুদ্রে রয়েছে জীবিত ও মৃত প্রবাল এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ প্রবাল হল অ্যান্থজোয়া শ্রেণিভুক্ত সামুদ্রিক প্রাণি এদের নিকটাত্বীয় হল সাগর কুসুম এরা সাগর কুসুমের মতোই পলিপ তৈরি করে, তবে সাধারণত এরা কলোনি তৈরি করে বসবাস করে কলোনির সমস্ত প্রবাল জিনগতভাবে অভিন্ন হয় এরা প্রাণি হলেও পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় সাগরতলে কোনো দৃঢ় তলের উপর গেড়ে বসে জীবন পার করে দেয় নিশ্চল হয়ে

প্রবাল বা জীবিত প্রবাল

প্রতিটি প্রবাল পলিপ যেখানে গেড়ে বসে সেখানে নিজের দেহের চারপাশে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসরণের মধ্যদিয়ে শক্ত পাথুরে খোলোশ বা বহিঃকঙ্কালের সৃষ্টি করে একটা প্রবাল পলিপের মৃত্যুর পরও খোলসটি রয়ে যায় এবং তা অস্মীভূত হয়ে যেতে পারে এরকম অস্মীভূত প্রবালের দেহাবশেষের উপর নতুন করে আবার প্রবাল বসতে পারে এভাবে একটা কলোনি বহু প্রজন্ম ধরে চলার ফলে বড়সড় পাথুরে আকৃতি ধারন করতে পারে এভাবেই তৈরি হয় প্রবাল দ্বীপ আমাদের সেন্টমার্টিনও এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে

এবার ফিরে আসা যাক আগের কথায় সমুদ্রস্নানের পর্ব আমাদের বিকেল ৪টার মধ্যে শেষ হয় এবপর সবাইকে ৩ ঘণ্টা সময় দেয়া হয় নিজেদের মতো করে কাটাতে এই সময়টা ছিল খুব মূল্যবান সবাই নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারে ছাত্র-শিক্ষকের একটি দল সৈকতে ফুটবল খেলে কাটায় একদল কেনাকাটা করে, একদল বিশ্রাম নেয় আর অন্যদলটি সাইকেল নিয়ে দ্বীপ ভ্রমনে বের হয় সাইকেলে দ্বীপ ভ্রমণ ছিল সবচেয়ে আনন্দের দ্বীপের অর্ধেকটা সাইকেলে গিয়ে গ্রামের মধ্যদিয়ে দ্বীপের অধিবাসী-স্থাপনা ইত্যাদি দেখা যায় আমরা ছাত্র-শিক্ষকের একটি দল সাইকেল ভাড়া নিয়ে বের হই

এখানে বলে রাখা ভাল সিডর এবং আইল্যার মতো সাম্প্রতিককালের বড় বড় ঝড়গুলো দ্বীপটার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি এর কারণ হতে পারে প্রবাল-পাথর এবং নারিকেল গাছ এর থেকেও বড় কারণ সবগুলো ঝড় দ্বীপটাকে কোনোভাবে পাশ কাটিয়ে যায় এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকলেও এটা  হয়েছে এখানকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো স্থানীয়দের জন্য যথেষ্ট না হলেও ঝড়ে মানুষ মরেছে বা হারিয়ে গেছে এমন কোনো খবর পাওয়া যায় না আমরা সাইকেল ভ্রমন শেষে কিছু সময় সমুদ্র সৈকতে কাটাই হেঁটে হেঁটে কেউবা গা এলিয়ে দিয়ে এসময় আমরা সৈকতের কাছে ফ্রাই হওয়া সামুদ্রিক মাছ খাই তারপর হোটেলে ফিরি হোটেলে আগে থেকেই আয়োজন করে রাখা হয়েছিল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও লটারির সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সাজানো হয়েছিল স্থানীয় শিল্পী এবং আমাদের ছাত্র-শিক্ষকের গান ও কবিতা আবৃত্তি দিয়ে সূচনা করেন মিজান স্যার মান্নান স্যারের বক্তব্যের পর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সঞ্চালনা করেন শামীম স্যার এবং লটারী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পল্লব স্যার এরপর মাইক তুলে দেয়া হয় ব্রাদার তরেনের হাতে তার বক্তব্যের পর হয় ক্যাম্প ফায়ার ক্যাম্প ফায়ারে অংশ নেয় আমাদের কয়েকজন স্কাউট সদস্য

হায়দার স্যার এর নেতৃত্ব দেন শেষে বারবিকিউ পার্টি বারবিকিউ চলাকালে স্থানীয় শিল্পীদের গান চলতে থাকে রাত এগারোটার পর সবার জন্য নিজের হোটেল ও রুমে ফিরে যেতে বলার নির্দেশনা থাকলেও একদল সমুদ্রপাগল ছাত্র-শিক্ষক গভীর রাত পর্যন্ত সমুদ্রে কাটান কেউ গান গায় কেউ গান শোনে কেউ হাঁটে কেউ শুয়ে থাকে কেউ শুধু সমুদ্রের গর্জন শোনে কেউ ঘুমিয়ে যায় রাত একটার মধ্যে সবার হোটেলে ফেরা নিশ্চিত হলে আমরা শেষ কয়েকজন শিক্ষক হোটেলে ফিরি

পরদিন খিচুরী-আলুভর্তা দিয়ে সকালের খাবারের পর আমরা আবার জেটিতে চলে যাই চারটি সাম্পান ট্রলারে করে আমরা পৌছাই ছেঁড়া দ্বীপে ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়ার জন্য সাম্পান ট্রলার, সাধারণ ট্রলার ও স্প্রিড বোর্ট যায় কেউ চাইলে ভাটার সময় পায়ে হেঁটেও যেতে পারে সেক্ষেত্রে সময় লাগবে দুই ঘণ্টার মতো ট্রলারে গেলে ৩০-৪০মিনিট স্প্রিড বোর্টে ১২ থেকে ১৫ মিনিট ছেঁড়া দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে আলাদা না হয়েও আলাদা কারণ, এটি জোয়ারের সময় মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে যায় এজন্য একে ছেঁড়া দ্বীপ বলা হয়

এখানে দুটি অংশ রয়েছে উত্তর ও দক্ষিন এখানে রাত যাপন নিষিদ্ধ এর কারণ জীববৈচিত্রের সংরক্ষণ এছাড়া সেন্টমার্টিনের মাটির গভীরের পানি পানযোগ্য হলেও এখানকার পানি লবনাক্ত আমরা কেউ কেউ জীবিত প্রবালের সন্ধান করি

ছেঁড়া দ্বীপ থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে আমরা ফিরে আসি হেটেলে দুপুরের খাবার খাই ফ্লাইং ফিস দিয়ে কোরালের পর এখানে যে মাছের  জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি এরপর জাহাজে উঠি পথে অনেকেই পছন্দের মানুষের জন্য কেনাকাটা করে তবে এবার জাহাজ ভ্রমণটা আগেরবারে মতো ছিল না আমরা সামুদ্রিক ঝড়ে পড়ি ঝড়টা খুব বড় না হলেও অনেকে ভয় পেয়ে যায় এবং বমিও করে ৬টি জাহাজ একসাথে রওনা হওয়ায় ভরসা পাওয়া যায় তবে এই সময়ে ভ্রমণের প্রকৃত উত্তেজনা বোধ করা গেছে

সন্ধ্যায় আমরা টেকনাফ পৌছাই সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল চারটি বাস আমরা পথে দুটি বিরতি দিই প্রথমটায় রাতের খাবার খাই এরপর ঘুম সকালে ঢাকা ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখ সকালে আমরা ঢাকা পৌছায় এই শিক্ষা সফর বা স্টাডি ট্যুরটি ছিল আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর

 *মোঃ মিজানুর

প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান (কলেজ শাখা)

বাংলা বিভাগ

 

 সে

College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail
College Picnic St. Martin's Island
College Picnic ...
Detail