‘‘নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে’’

তারিখ: ১৯ আগস্ট, শুক্রবার, ২০১৬

বর্ষার বিদায় বেলায় শরতের স্নিগ্ধ সকালে শুভ্র মেঘের দোলায় চড়ে আলো-ছায়ার খেলায় সেন্ট গ্রেগরী প্রাঙ্গন যেন নবরূপে নব পত্র-পুষ্প-পল্লবে সেজেছিলো এক মহিমাময় ঐতিহাসিক ক্ষণের জন্ম দিতে। হাজার  সাফল্যের ফুলমাল্য গলে সাধু গ্রেগরীর স্নিগ্ধ ছায়াতল একশত চৌত্রিশ বছর সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল স্বর্ণময় অধ্যায় সূচনার দারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসছিলো। আর এ হাসির সম্মোহনে উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত হয়ে সেন্ট গ্রেগরী পরিবারের সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জাগে খুশির শিহরণ। সাজ সাজ রবে মঙ্গলবার্তা ধ্বনিত হয় প্রাণ থেকে প্রাণে সেবার ব্রতে মানবতার কল্যাণে। সময়ের দাবিতে সেবাকে প্রসারিত করতে প্রয়োজন হয় নতুন অবকাঠামো আর আঙ্গিকের। এ চেতনাকে সামনে রেখে নির্মিত হয় আধুনিক শিল্প শৈলী ধারায় ঐতিহ্য সমুন্নত নয়তলা ভবন। ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারি সকলের বহু প্রতিক্ষিত নতুন ভবন ও কলেজ শাখার উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ১৯ আগস্ট ২০১৬ খ্রী. শুক্রবার সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে শরতের শিউলি ঝরা মনোমুগ্ধকর সকালে মহামান্য আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডিরোজারিও সি.এস.সি.সহ সূর্যসম-গ্রেগরী সৌরজগতের অতি-উজ্জ্বল নক্ষত্রদের ও অন্যান্য যশস্বী অতিথিদের সমারোহ ঘটেছিলো।

এ মহতী অনুষ্ঠানের সভাপতির আসন অলংকৃত করেন সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত সভাপতি ডক্টর ব্রাদার হ্যারোল্ড বিজয় রড্রিক্স সি.এস.সি.। প্রধান অতিথি হিসেবে সদয় উপস্থিত ছিলেন মহামান্য আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডিরোজারিও সি.এস.সি.,ঢাকা মহাধর্ম প্রদেশ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি ডাক্তার গ্রেগরীয়ান এ.কিউ.এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী সংবিধান প্রণেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেগরীয়ান ডক্টর কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামিস্ট্রি ও মলিকিউলার বায়োলজি-এর অধ্যাপক ডক্টর হাসিনা খান (গ্রেগরীয়ান এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্রেগরীয়ান আজম ভাইয়ের বোন), নটরডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফাদার  জোসেফ পিশাতো সি.এস.সি., গ্রেগরীয়ান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মুনাদির ইসলাম, এবং উপস্থিত ছিলেন সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ সি.এস.সি.। এসব মহান সন্ন্যাসী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদের উপস্থিতি এ ঐতিহাসিক ক্ষণকে করেছে আরো উজ্জ্বল, গৌরবময়, আলোকিত ও তাৎপর্যমণ্ডিত এসময় এছাড়াও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন গণ্যমান্য বিশিষ্ট গ্রেগরীয়ানবৃন্দ, সাবেক ও বর্তমান ব্রাদারগণ-শিক্ষকমণ্ডলী, প্রতিবেশি বিভিন্ন স্কুল কলেজের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা-অধ্যক্ষমণ্ডলী, অভিভাবকগণ ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময় ছিলো সকাল সাড়ে নয়টা। উল্লেখ্য নির্ধারিত সময়ের বহু পূর্বেই গ্রেগরীর প্রতি বিশেষ ভালোবাসার টানে সকল অতিথি এসে উপস্থিত হন। পূর্ব নির্ধারিত সকাল সাড়ে নয়টায় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালকদ্বয় অধ্যক্ষ মহোদয়ের অনুমতি ও নির্দেশক্রমে সিনিয়র শিক্ষক রাম কুমার ভট্টাচার্য্য ও পতিতপাবন মণ্ডল অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণা দেন। সম্মানিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ সি.এস.সি. সুসজ্জিত স্কাউট দলের গার্ড অব অনার ও বাদ্যের তালে তালে ধীর পদক্ষেপে মূলমঞ্চের দিকে দৃপ্তপায়ে অগ্রসর হয়ে দর্শকসারিতে পৌঁছালে উপস্থিত সুধীমণ্ডলী মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে অতিথিদের স্বাগত ও অভিনন্দন জানান। অতঃপর সকলে দর্শকসারিতে আসন গ্রহণ করেন। জাতীয় সংগীত ও বিদ্যালয় সংগীতের পর সকলে মূলমঞ্চে আসন গ্রহণ করলে বর্তমান ছাত্র-শিক্ষকেরা নৃত্য, সংগীত ও ফুলেল শুভেচ্ছায় মহান অতিথিদের সাদরে বরণ করেন।

অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ সি.এস.সি. তাঁর স্বাগত ভাষণে সকলকে সাধু গ্রেগরীর প্রাঙ্গনে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাঁর ভাষণে জানান ২০১২ খ্রীষ্টাব্দে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর নির্মাণাধীন এ নয়তলা ভবনের কাজ শেষ করতে তাঁকে বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। একদিকে নতুন দায়িত্ব অন্য দিকে অর্থ সংকট অবশেষে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে, খ্যাতিমান গ্রেগরীয়ানবৃন্দ, অভিভাবকমণ্ডলী, ব্রাদারগণ, ছাত্র-শিক্ষকসহ অনেকের সহযোগিতা ও পরিশ্রমের ফলে সদ্য সমাপ্ত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুভক্ষণে এসে উপস্থিত হতে পেরেছেন বলে তিনি জানান। এ ভবনের নির্মাণকাজে বিভিন্ন পর্যায়ে যাঁরা জড়িত ছিলেন তিনি তাঁদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন ও অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি জানান দুটি পরিবার এ ভবন নির্মাণে বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন, এর মধ্যে গ্রেগরীয়ান এ মতিন চৌধুরী, ‘শহিদ খালেক অ্যান্ড মেজর সালেক বীর উত্তম ট্রাস্টথেকে এক কোটি টাকা ও গ্রেগরীয়ান এ. কে. এম. শামসুল অজমের পরিবার বিশ লক্ষ টাকা এ ভবন নির্মাণে দান করেন। তিনি গ্রেগরী পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ভাষণে এ পরিবার দুটিকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।  

অধ্যক্ষ মহোদয় দ্বিতীয়বারের ন্যায় সেন্ট গ্রেগরী কলেজ শাখা শুরু করতে পেরে আনন্দ অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে ১৯৪৯ সালে ক্যাথলিক মিশনারি ফাদারদের তত্ত্বাবধানে সেন্ট গ্রেগরী কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিলো। যার প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ফাদার হ্যারিংটন যিনি ১৯৪৯-১৯৫৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম এক বছর সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুলেই কলেজের কার্যক্রম চলতো। পরবর্তী পাঁচ বছর লক্ষ্মীবাজারের অন্যত্র এ কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পর নটরডেম নাম দিয়ে কলেজটিকে বর্তমানের মতিঝিলে স্থানান্তরিত করা হয়; আজ যেখানে কলেজের পাশাপাশি নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ও শোভা পাচ্ছে। আর এ কারণেই তিনি দ্বিতীয় বার কলেজ শাখার শুরু করতে পারলেন এ কথা জানান বলে ধারণা করা যায়। অধ্যক্ষ মহোদয় আরো জানান একেবারে শেষ মূহুর্তে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন পেলেও অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে সকলের সহযোগিতায় শিক্ষক নিয়োগসহ সকল বিষয় সফলভাবে শুরু করতে পেরেছেন। নতুন ভবন ও কলেজ শাখার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বলে তিনি সব কিছুর জন্যে সর্বাগ্রে মহান সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ,  তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও তাঁর প্রশংসা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে সেন্ট গ্রেগরী তার ঐতিহ্য বজায় রেখে সকলের সহযোগিতায় উত্তরোত্তর সফলতার শীর্ষে পদার্পণ করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  

অধ্যাপক ডক্টর হাসিনা খান মিশনারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সেন্ট গ্রেগরী, সেন্ট ফ্রান্সিস, নটরডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজের প্রতি তিনি তাঁর অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনিসহ তার ছয় ভাই এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখা করে আজ সকলে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর বড় ভাই গ্রেগরীয়ান এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট গ্রেগরীয়ান আজম ভাই গ্রেগরীকে মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন ও গ্রেগরীর আদর্শ জীবনে অক্ষরে অক্ষরে ধারণ করতেন যিনি আজ আর এ পৃথিবীতে নেই। তাই তিনি সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ করেন গ্রেগরী যেন আজম ভাইকে মনে রাখে।

গ্রেগরীয়ান এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট গ্রেগরীয়ান মুনাদির ইসলাম এ অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে তিনি গ্রেগরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। আনন্দ প্রকাশ করে তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি ডাক্তার গ্রেগরীয়ান এ.কিউ.এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাঁর ভাষণে অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষা ও শিক্ষকতাকে একটি আর্ট (শিল্প) হিসেবে উল্লেখ করে এর উন্নতির শেষ নেই বলে তাঁর ভাষণে জানান। তাই আরো উন্নতির জন্য এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে বলে অনুরোধ করেন। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় সেন্ট গ্রেগরীর জন্য একটি বড় মাঠ তৈরির প্রস্তাব রেখে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে তিনি প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ব্রাদার জুড সি.এস.সি.র একটি বাণী উদ্ধৃত করেন -- `Wherever you go, whatever you do, remember you are a Gregorian.'

নটরডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফাদার  জোসেফ পিশাতো সি.এস.সি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সেন্ট গ্রেগরী পরিবারের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ১৮৮২ খ্রী. থেকে শুরু করে অদ্যাবধি সকল প্রধান শিক্ষকের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, জানান ধন্যবাদ। তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানে দুই বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের মধুর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী সংবিধান প্রণেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেগরীয়ান ডক্টর কামাল হোসেন অনেক স্মৃতি বিজড়িত প্রিয় এ বিদ্যাপীঠের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখার আহবান জানান। সময়ের প্রয়োজনে কাঠামোগত উন্নতিতে তিনি ভীষণ খুশি বলে জানান। একইসাথে পুরনো ভবন যা এখনো বর্তমান রয়েছে তা ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের পরামর্শ প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনিসহ অনেক গ্রেগরীয়ান বিশেষ অবদান রাখেন বলে তিনি জানান। আজ দেশ গড়ার কাজেও বর্তমান ছাত্রদের তিনি এগিয়ে আসার আহবান জানান। তথাকথিত শিক্ষা নয় সেন্ট গ্রেগরী যে তাঁর সময়ের মতো এখনো ছাত্রদের প্রকৃত মানুষ গড়ার কাজে সর্বদা সচেষ্ট তা জেনে তিনি আনন্দিত বলে উল্লেখ করেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গ্রেগরী সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে নিরন্তর এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা সে কথা মনে করিয়ে দেয় বলে তিনি জানান। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ব্রাদার ফুলজেন্স সি.এস.সি.কে এ অনুষ্ঠানের ছবি পাঠাবার অনুরোধ রেখে সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

প্রধান অতিথি মহামান্য আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডিরোজারিও সি.এস.সি. তাঁর ভাষণে বলেন যে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত এ দিনের জন্য। চার্চ যে উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষালয়গুলো গড়ে তুলেছিলো আজ তার সোনালি ফসল দেখে তিনি খুশি। তিনি সন্তুষ্টচিত্তে বলেন যে গ্রেগরী যুগ যুগ ধরে ডাক্তার বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ডক্টর কামাল হোসেন, তাজউদ্দিন আহমদ, অমর্ত্য সেন তৈরি করুক। আজকের সেন্ট গ্রেগরীর উন্নয়ন দেখে তিনি অত্যন্ত আপ্লুত। তিনি জানান শুধু উপরে উঠলে চলবে না, গোড়ায়ও নামতে হবে, অর্থাৎ বিনয়ী হতে হবে, ধ্যানে মগ্ন হয়ে শিক্ষার প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করতে হবে। তিনি সকলকে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের এ শিক্ষামাতাকে ভালোবাসতে ও শ্রদ্ধা করতে আহবান জানান।  চার বছর পূর্বে ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ও আজ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি বলে তাঁর ভাষণে জানান। তিনি ডক্টর কামাল হোসেনসহ আরো যাঁরা মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরন্তর সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।  

অনুষ্ঠানের সভাপতি সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত সভাপতি ডক্টর ব্রাদার হ্যারোল্ড বিজয় রড্রিক্স সি.এস.সি. তাঁর ভাষণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সকলকে ধন্যবাদ জানান, ধন্যবাদ জানান এ অনুষ্ঠানকে সফল সার্থক করতে দীর্ঘদিন যাবত যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন তাঁদের। ফাদার্স অব হলিক্রস যাঁরা ১৮৮২ খ্রীষ্টাব্দে এ প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেছিলেন, ব্রাদার্স অব হলিক্রস যাঁরা প্রথম থেকে অদ্যাবধি এ প্রতিষ্ঠানটি সার্থকতার সাথে পরিচালনা করেছেন ও করছেন তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সকল শিক্ষকমণ্ডলী, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষার্থীদের প্রতি। বিগত বিশ বছরে সেন্ট গ্রেগরী তার অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে এর পিছনে যাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তিনি হলেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ব্রাদার রবি পিউরিফিকেশন সি.এস.সি. যাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা নিরলস পরিশ্রমে ছয়তলা ভবন নির্মিত হয় ও শুরু হয় নয় তলা ভবনের কার্যক্রম। তাঁর সময়ে ছয় তলা ভবন নির্মিত হওয়ায় ও নয় তলা ভবনের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তিনি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সভাপতি মহোদয় ফাদার জোসেফ পিশাতো সি.এস.সি.কে ধন্যবাদ জানান। কেননা তাঁর অনুরোধেই এক সময় ফাদার অত্র প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের নানামুখী উন্নয়ন সাধন করেন বলে তিনি জানান। মুক্তিযুদ্ধে অত্র প্রতিষ্ঠানের শ্রদ্ধেয় যে সকল শিক্ষক, স্নেহের শিক্ষার্থীরা অবদান রেখেছেন ও শহিদ হয়েছেন তাঁদের তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বর্তমান অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ সি.এস.সি.কে কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় নয় তলা ভবনের কার্যক্রম সুসম্পন্ন করায় ও কলেজের কার্যক্রম সুচারুরূপে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।  

শুভ উদ্বোধন ঘোষণা: অনুষ্ঠানের সঞ্চালকদ্বয়ের পূর্বাপর অনুরোধে প্রধান অতিথি অন্যান্য বিশেষ অতিথি ও অধ্যক্ষ মহোদয়কে সাথে নিয়ে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর পর অধ্যক্ষ মহোদয় সকল অতিথিকে সাথে নিয়ে বাস্কেটবল কোর্টে গিয়ে প্রধান অতিথির নেতৃত্বে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্বোধনী শুভবার্তা দিক থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে দেন।

নতুন ভবন উদ্বোধনের প্রথমেই প্রধান অতিথি মহামান্য আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডিরোজারিও সি.এস.সি. এ মহতী অনুষ্ঠানের সভাপতি সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত সভাপতি ডক্টর ব্রাদার হ্যারোল্ড বিজয় রড্রিক্স সি.এস.সি.। বিশেষ অতিথি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী সংবিধান প্রণেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেগরীয়ান ডক্টর কামাল হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি ও সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ সি.এস.সি.কে সাথে নিয়ে ফিতা কেটে নতুন ভবনের প্রবেশদার উন্মোচন করেন। অতঃপর মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্বালের পর প্রার্থনা করে সুসজ্জিত নতুন ভবনের সুদৃশ্য উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন। এর পর মহামান্য আর্চবিশপ সকলকে সাথে নিয়ে সমগ্র ভবনে পবিত্র জল সিঞ্চনের মাধ্যমে নতুন ভবনকে আশির্বাদিত করেন ও অডিটোরিয়াম পরিদর্শনসহ কম্পিউটার ল্যাবের উদ্বোধন করেন। 

মহতী এ আয়োজনকে আরো বর্ণিল ও আনন্দঘন করবার জন্য মহামান্য আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডিরোজারিও সি.এস.সি. সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত সভাপতি ডক্টর ব্রাদার হ্যারোল্ড বিজয় রড্রিক্স সি.এস.সি.সহ অন্যান্য অতিথি, ও সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গমেজ সি.এস.সি.কে সাথে নিয়ে সুদৃশ্য মনোরম কেক কাটেন। এর মধ্যেই সভাপতির অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তির ঘোষণা ধ্বনিত হয়।

পরিশেষে উপস্থিত সকল অতিথি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সুন্দর অপ্যায়নের মাধ্যমে নতুন নয় তলা ভবন ও কলেজ শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সফল ও সার্থক পরিসমাপ্তি ঘটে।

“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail
“নব গৌরব তিলক অঙ্কিত হলো গ্রেগরীর ভালে”
“নব গৌরব তিলক অ...
Detail